বিশ্বব্যাপী জাহাজের জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহারের চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের এলএনজি রফতানি প্রকল্প সামনের দিনগুলোয় বাজারে সরবরাহের আধিক্য তৈরি করবে। ফলে দাম কমে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩ শতাংশ আসে নৌ-পরিবহন খাত থেকে। তবে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে মিথানল ও অ্যামোনিয়ার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নৌ-পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এলএনজি।
শিপব্রোকার প্রতিষ্ঠান ফার্নলিজের এলএনজি ও নিউ এনার্জি বিভাগের সহযোগী পরিচালক টুয়োমাস মালজানেন বলেন, ‘খরচ কমাবে এমন জ্বালানি বেছে নিচ্ছেন জাহাজমালিকরা। এছাড়া এলএনজি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবিধা এবং সরঞ্জাম এরই মধ্যে রয়েছে এবং তা লাভজনক।’
রাইস্টাড এনার্জির হিসাবে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এলএনজি বাঙ্কারিং (জাহাজের ট্যাংকে জ্বালানি নেয়া) কার্যক্রম হয়েছে সিঙ্গাপুরে। এরপর চীন ও নেদারল্যান্ডসের অবস্থান। আগামী বছরগুলোয় এ কার্যক্রম আরো বাড়াতে অতিরিক্ত লাইসেন্স দেয়ার পরিকল্পনা করছে সিঙ্গাপুর।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাঙ্কারিং ভলিউম ৪০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ হবে। ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসের মতে, ওই সময় এলএনজি ও বায়ো-এলএনজি (জৈব উৎস থেকে তৈরি) জ্বালানির চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ৫০ লাখ টনে।
বর্তমানে ৭৮১টি দ্বৈত-জ্বালানিচালিত জাহাজে এলএনজি ব্যবহার হচ্ছে। সার্টিফিকেশন সংস্থা ডিএনভির হিসাবে, চলমান অর্ডার অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ হাজার ৪১৭-তে পৌঁছতে পারে। নতুন অর্ডার যুক্ত হলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
এলএনজি ব্যবহার করলে প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় ১৯ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ হয় বলে জানিয়েছে জাপানের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি মিতসুই ওএসকে লাইনস। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, যতক্ষণ পর্যন্ত শূন্য বা প্রায় শূন্য কার্বন নিঃসরণ জ্বালানি বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য না হচ্ছে, ততক্ষণ এলএনজিই বাস্তবসম্মত বিকল্প।
ডেনমার্কের শিপিং ও কনটেইনার লজিস্টিক কোম্পানি মায়েরস্ক জানিয়েছে, যারা এতদিন শুধু গ্রিন মিথানল ব্যবহারে জোর দিচ্ছিল, তারা ২০২৮-৩০ সালের মধ্যে সরবরাহের জন্য ২০টি এলএনজি দ্বৈত-জ্বালানি কনটেইনার জাহাজ অর্ডার দিয়েছে।
ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস জানায়, ২০৩০ সালের পর প্রতিযোগিতায় মিথানল ও অ্যামোনিয়াকে পেছনে ফেলবে এলএনজি। কারণ নবায়নযোগ্য মিথানল ও অ্যামোনিয়ার উৎপাদন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।